১৮ দিন পর মেয়েকে পাওয়া গেল, কিন্তু ফিরলেন না বাবা
| রানী মন্ডল |
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতেই প্রশান্ত কুমার মন্ডলের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত আজ দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, খুলনা জেলার পাইকগাছা থানায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলার সূত্র ধরে গত ১১ মার্চ ২০২৬ দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো এলাকার মুন্সি মার্কেট সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে অপহৃত কিশোরী সুচনা রানী মন্ডলকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই অভিযানে মামলার প্রধান আসামি মান্না সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। খুলনা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে পাইকগাছা থানা ও আশুলিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মেয়েকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর প্রশান্ত কুমার মন্ডল দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের সহায়তায় আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন, যাতে তিনি নিজেই মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারেন। কিন্তু পথিমধ্যে ফেরিঘাট এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার এক ভাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন, আর অন্য ভাই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আশুলিয়ার পথে এগিয়ে যান।
তবে বাড়ি ফেরার সেই পথই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা। দুপুরের দিকে ভাড়া করা মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত প্রশান্ত কুমার মন্ডল ও তার ভাইকে সড়কের পাশে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রশান্ত কুমার মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং আইসিইউতে নেওয়ার পর আজ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
একদিকে দীর্ঘ ১৮ দিন পর অপহৃত কন্যা সুচনা রানী মন্ডলকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি, অন্যদিকে মেয়েকে আনতে গিয়ে বাবার মৃত্যু—এই নির্মম বাস্তবতায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। যে বাবা বুকভরা আশা নিয়ে মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য রওনা দিয়েছিলেন, সেই বাবাই আর জীবিত অবস্থায় মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারলেন না। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিবেকবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।



.png)

%20.png)

No comments: